Skip to main content

ইসলামে কোরবানি, ‘মনের পশু’ তত্ত্ব ও খ্রিষ্টধর্ম


আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
যাঁরা ঈদ এলে প্রায়ই নিজেকে মহান পশুদরদি প্রমাণ করবার জন্য পশু কোরবানি না দিয়ে মনের পশু কোরবানির তত্ত্ব দিয়ে থাকেন, তাঁদের কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য পেশ করছি। আশা করি তাঁরা ভেবে দেখবেন।
১. সব ধর্মেই নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী পরমের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কোরবানির বিধান আছে। বলা বাহুল্য, তাকে কোরবানি বলা হয় না। বলা হয় বলী, ঈশ্বরের জন্য রক্তোৎসর্গ ইত্যাদি। আরবিতে উদিয়া শব্দের অর্থ রক্তোৎসর্গ। তবে উর্দু ও ফারসি ভাষায় আরেকটি আরবি শব্দ কোরবানথেকে কোরবানিকথাটার চল হয়েছে। অনেকে মুসলমান হিসাবে নিজের সম্প্রদায়গত পরিচয়কে প্রধান করে তুলতে চান বলে পরমের সন্তুষ্টি লাভকথাটার সঙ্গে একাত্মবোধ না-ও করতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ তো অবশ্যই ইসলামের দিক থেকে পরম সত্য, সেই দিক থেকে একাত্মবোধ না করার সমস্যাও আছে। তবে ইসলামের ইতিহাসে যাঁরা সাম্প্রদায়িকতা ও চিন্তার সঙ্কীর্ণতাকে প্রশ্রয় দেন নি, তাঁরাআল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান ছাড়াও কোরবানির মধ্য দিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের কথা বলেন। মুমিনের জীবনে এর চেয়ে বড় প্রত্যাশা আর নাই। আল্লাহর নৈকট্য একই সঙ্গে সকল প্রকার সঙ্কীর্ণতা, স্বার্থপরতা ও সাম্প্রদায়িকতাকে কোরবানিওবটে।
২. ইসলামবিরোধী প্রপাগান্ডার অংশ হিসাবে কোরবানিকে নিছকই পশুহত্যা হিসাবে চিহ্নিত করবারচেষ্টা নতুন নয়। তবে সেকুলারিজম, নাস্তিকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেবার জন্য ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে নিন্দিত করে তোলার চেষ্টা সাম্প্রতিক। একে প্রকট করে তোলার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের হিংসা, হিংস্রতা এবং প্রাণীর প্রতি নির্দয়তা সহজেই প্রমাণ করা যায়। যেহেতু কোরবানি শব্দটি বিশেষ ভাবে মুসলমানদের ধর্মচর্চার সঙ্গে যুক্ত, সেই ভাবেই তার বিশেষ প্রচার চলে। তাই আমরা বুঝতে পারি না ধারণাগত ভাবে যাকে মানুষ পরম জ্ঞান করে তাকে সন্তুষ্ট করবার বিভিন্ন ধর্মীয় চর্চা তেমন নতুন নয়। ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ তাদের সামাজিক ঐক্য দৃঢ় করবার দরকারেই তা উদ্ভাবন করেছে। এখানে মুসলমানদের কোন একচেটিয়া নাই। তবে কোরবানির ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও ব্যাখ্যায় অবশ্যই স্বাতন্ত্র্য আছে। সেই দিকটাগুরুত্বপূর্ণ।
৩. ধর্মের ইতিহাসের দিক থেকে বিচার করলে প্রথমেই বোঝা দরকার পরমের সন্তুষ্টির জন্য প্রাণী উৎসর্গ করার বিধানের বিরোধিতা করা একান্তই একটি খ্রিষ্টীয় চিন্তা। তাই এর বিরোধিতা করতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রাণী-প্রেম, অহিংসবাদ, নৈতিকতার বাগাড়ম্বর প্রদর্শন খুবই বিরক্তিকর। খ্রিষ্টধর্ম একটি মহান ধর্ম। ফলে খ্রিষ্টীয় চিন্তার বশবর্তী হয়ে কেউ ধর্মচর্চার অংশ হিসাবে প্রাণী উৎসর্গ করবার বিরোধিতা করতেই পারেন। কারণ খ্রিষ্টধর্মের চোখে এটা পাগানিজম- বর্বরদের চর্চা। বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠি, জাতি বা জনগোষ্ঠি অসভ্য ও পশ্চাৎপদ। তারা ধর্ম কী জানে না। দাবি করা হয়, খ্রিষ্টধর্মইএকমাত্র সত্যিকারের ধর্ম। যিশু নিজেকে নিজে ক্রসে কোরবানিদিয়েছেন। এর চেয়ে বড় কোরবানি আর কিছুই হতে পারে না। এটাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ কোরবানি। কোরবানির চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন তিনি। এরপর অন্য সব কোরবানি নিরর্থক। কারণ সত্যিকারের ধর্ম হাজির হয়েছে। এখন কর্তব্য হচ্ছে ক্রুসেড পরিচালনা ও সব জনগোষ্ঠিকে ধর্মান্তরিত করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য পশু কোরবানি বন্ধ করা। পাগান বা বর্বরদের বিপরীতে খ্রিষ্টধর্মের মাহাত্ম্য প্রমাণের জন্যই পশু কোরবানি খ্রিষ্টধর্ম নিষিদ্ধ করেছে। যারা কোরবানির বিরোধিতা করেন, তারা খ্রিষ্টান না হতে পারেন, কিন্তু সাধারণত তারা যে যুক্তি দিয়ে থাকেন, সেটা একান্তই খ্রিষ্টধর্মেরই যুক্তি।
৪. এই দিক থেকে খ্রিষ্টধর্ম সৎ। ধর্মনিরপেক্ষতা, প্রাণী-প্রেম, নৈতিকতার বাগাড়ম্বর এখানে নাই। এই বিরোধিতা খ্রিষ্টধর্মের দিক থেকে একই সঙ্গে কোরবানির ন্যায্যতা প্রমাণও বটে। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন বা নৈকট্য অর্জনই আমাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে মানুষের মুক্তির জন্য নিজেকে কোরবানির দেবার চেয়ে বড় উৎসর্গ আর কী হতে পারে? কিন্তু মনের পশু কোরবানির তত্ত্ব যারা দিয়ে থাকেন, তাঁরা নিজেদের সেকুলার প্রমাণ করবার জন্য এই সৎ অবস্থান গ্রহণ করেন না। তাঁরা যিশুর মতো মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে রাজি না। তাই তাঁরা মনের পশু বধ করবার কথা বলে সস্তায় হাততালি পেতে চান।
৫. খ্রিষ্টধর্মের যুক্তি হচ্ছে চূড়ান্ত কোরবানির উদাহরণ প্রদর্শিত হয়েছে। আর কোন কোরবানির দরকার নাই। যাঁরা মহান যিশুর উদাহরণ দেখে উজ্জীবিত তাদের উচিত প্রভুর প্রেমের জগতে আশ্রয় লাভ করা। কিন্তু এই সততা একই সঙ্গে বর্ণবাদ, ঔপনিবেশিকতা ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ঘৃণারও ভিত্তি। এর দ্বারা কারা সভ্য আর কারা অসভ্য, অপরিষ্কার ও হননযোগ্য তা-ও নির্ধারিত হয়। সাদারাই একমাত্র সভ্য এবং তারা খ্রিষ্টান। বর্ণবাদী হোয়াইট সুপ্রিমেসির মানদণ্ড হয়েদাঁড়ায় খ্রিষ্টধর্ম। যারা পশু কোরবানিকে বর্বর মনে করেন এবং ভাবেন যে এটা ধর্মনিরপেক্ষ নৈতিক অবস্থান- আসলে ব্যাপারটা অত সিম্পল নয়। আপনি আসলে আপনার অজান্তে হোয়াইট সুপ্রিমেসি ও বর্ণবাদের জয়গানই গাইছেন। কিন্তু নিজের চেহারা লুকিয়ে। আপনি যদি খ্রিষ্টান না হয়ে থাকেন, আপনি নিজেই বলুন আপনাকে কী বলা যায়!
৬. ইসলাম হজরত ঈসা আলাইহে ওয়া সাল্লামের এই কোরবানিকে মান্য করে। তিনি আল্লাহর রাসুল এবং তাঁকে রসুল হিসাবে মানা ইসলামে মুমিন হিসাবে বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর নিজেকে নিজে আল্লাহর পথে কোরবানি দেওয়া ইসলামের চূড়ান্ত একটি আদর্শ যার সঙ্গে জিহাদ-এর ধারণা যুক্ত। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকা। তাঁর মধ্যে এই বিশুদ্ধ জিহাদি ও প্রেম মূর্তির সম্মিলন ঘটেছে বলেতিনি রুহুল্লাহ। তাঁর মধ্য দিয়ে নাফসানিয়াতের বিরুদ্ধে রুহানিয়াতের বিজয় ঘটেছে, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের পথে মানুষ রুহানিয়তের পরম যে রূপ প্রদর্শন করতে পারে তার নজির। আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। আখেরি নবী ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের চূড়ান্ত রূপ হজরত ঈসার (আ:) মধ্যেই আমরা দেখি। মানুষের পক্ষে এই হাল বা স্বভাব অর্জন সম্ভব, কারণ দুনিয়ায় আল্লাহ মানুষকে আল্লাহর খলিফা হিসাবেই- রুহানিয়াতের শক্তি সম্পন্ন করেই- পাঠিয়েছেন। ফলে শুধু মৃত্যুর পর বেহেশতের লোভে, কিম্বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বশবর্তী হয়ে নয় বরং জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের মুক্তি এবং আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি প্রাণের হেফাজত ও সুরক্ষার জন্য ইসলাম জিহাদের কথা বলে। হজরত মোহাম্মদ (সা:) শুধু মুসলমানদের মুক্তির জন্য আসেন নি। তিনি সকল মানুষের জন্যই এসেছেন। শুধু মানুষও নয়- পশু পাখি কীট পতঙ্গসহ আল্লাহর সকল সৃষ্টির রহমত হিসাবেই তাঁর আবির্ভাব ঘটেছে। খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে হজরত ঈসাকে (আ:) নিয়ে কোন ঝগড়া নাই।
৭. তবে বিরোধ তো অন্য ক্ষেত্রে আছেই। খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে ইসলামের বিরোধের প্রথম ক্ষেত্র হচ্ছে খ্রিষ্টধর্ম হজরত ঈসাকে আল্লাহর পুত্র বানিয়ে প্রতিটিমানুষের মধ্যে রুহানিয়াতের বিকাশের সম্ভাবনা কার্যত অস্বীকার করে। এতে দাবি করা হয় আল্লাহর পুত্র না হলে ইহলৌকিক মানুষের পক্ষে এই প্রকার রুহানিয়াতের শক্তি অর্জন অসম্ভব। অন্য দিকে আল্লাহর কোন ছেলে-মেয়ে নাই সেই ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়ে একত্ববাদের আদি রসুল হজরত ইব্রাহিম বা আব্রাহামেরও বিরোধিতা করে। যিশুকে আল্লাহর পুত্র বলার মধ্য দিয়ে ইসলামের প্রধান আপত্তি হোল এটা শেরেকি। খ্রিষ্টধর্ম হজরত ইব্রাহিমের একত্ববাদের শিক্ষা থেকে সরে গিয়েছে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে খ্রিষ্টধর্ম সভ্য/বর্বর, সাদা/কালোসহ মানুষের মধ্যে মানুষের বিভাজন তৈরি করে। আমরা ইসলামের আপত্তিনিয়ে তর্ক করতে পারি, কিন্তু দুটো ধর্ম যিশুকে মেনেও তাঁর তাৎপর্য বিচার করতে গিয়ে কোথায় পরস্পর পৃথক হয়ে যায় সেই দিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৮. এবার আসা যাক আখেরি নবী কেন হজরত ঈসার (আ:) নজির থাকা সত্ত্বেও কোরবানির প্রচলন করলেন। এর কারণ হচ্ছেন হজরত ইব্রাহিম (আ:)। আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানযদি রুহানিয়াতের পথ হয়ে থাকে তাহলে হজরত ইব্রাহিম আল্লাহর আদেশ পালন করতে গিয়ে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে কোরবানি করতে চেয়েছিলেন। কোরবানির এই নজির যেন আমরা ভুলে না যাই। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এই সত্য তিনিই সবচেয়ে স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করেছিলেন। ইসলামপন্থিরা রসুলের উম্মত, কিন্তু একই সঙ্গে তারা মিল্লাতে ইব্রাহিম-এর অন্তর্ভুক্ত। শেরেকির বিরুদ্ধে লড়তে হলে হজরত ইব্রাহিমেরশিক্ষা কোন ভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। হজরত মুসা (আ:) ও হজরত ঈসা (আ:)-এর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যারা হজরত ইব্রাহিম (আ:)-এর একত্ববাদ থেকে সরে গিয়েছে- অথচ বড় গলায় হজরত ইব্রাহিম (আ:)কে তাদের পূর্বপুরুষ হিসাবে যারাস্বীকার করে- তাদের সুপথে আনবার জন্যই হজরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহকে স্মরণ ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক। আল্লাহর আদেশ পালন করতে গিয়ে হজরত ইব্রাহিম নিজের পুত্রসন্তানকে কোরবানি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মরণে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব।
৯. হজরত ইব্রাহিম যখন হজরত ইসমাইলের গলায় ছুরি চালাতে যাচ্ছিলেন, গলা কাটছিল না। তিনি পাথরে ছুরি শান দিলেন। দিয়ে পাথরে ছুরির ধার পরীক্ষা করলেন, পাথর দুই ভাগ হয়ে গেল। এরপর তিনি আবার সন্তানের গলায় ছুরি চালাতে গেলেন- কিন্তু কোন কাজ হোল না। কিন্তু তাতেও গলা কাটল না। ইসলামের গল্প হচ্ছে এই যে হজরতইব্রাহিম বললেন, হে ধারালো ছুরি, তুমি পাথর দ্বিখণ্ডিত করতে পারো, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার কাজে বাধা হয়ে উঠছ কেন? আল্লাহ ছুরিকে কথা বলার ক্ষমতা দিলেন। ছুরি বলল, আপনি একবার আমাকে হজরত ইসমাইলকে কোরবানিরআদেশ দিচ্ছেন, আর আল্লাহ সোবহানুতায়ালা আমাকে হাজারবার নিষেধ করছেন। আমি তাঁর অধীন। এ সময় আল্লাহর নির্দেশে জিব্রাইল হজরত ইসমাইলের পরিবর্তে দুম্বাকোরবানির জন্য হাজির। পুরা ঘটনার মধ্যে তিনি আল্লাহর মহিমা আল্লাহ কিভাবে প্রকাশ করেন তার নজির দেখে বলে উঠলেন আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর। হজরত ইব্রাহিম এই ঘোষণা শুনে পিছে ফিরে দেখলেন জিব্রাইল দাঁড়ানো। তিনি সঙ্গেসঙ্গে প্রত্যুত্তর দিলেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ছুরির নিচে স্বেচ্ছায় নিজের গলা পেতে রাখা হজরত ইসমাইল যোগ করলেন আল্লাহু আকবর, ওয়া লিল্লাহিলহামদ- আল্লাহ মহান, সকল প্রশংসা শুধু আল্লাহর জন্যই। এই গল্পের নানা বয়ান থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি মুসলমানের জন্য এই মূহূর্তটি চরম আবেগের বিষয়।
১০. অন্য যেকোন ধর্মের ইতিহাসের মতো ইসলামের ইতিহাসও সরল পথে এগোয় নি। তার অনেক মোড়, বাঁক, স্ববিরোধিতা, দ্বন্দ্ব আছে, আছে নানান মত ও মাজহাব। দুনিয়ার সকল মানুষকে একদিন একত্র করতে হবে- রক্ত, গোত্র, আভিজাত্য, গোষ্ঠি, ভূখণ্ড, নৃতাত্ত্বিক কিম্বা ভাষা বা সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদ অতিক্রম করে মানুষ একদিন ঐক্যবদ্ধ হবে- ইসলাম এই স্বপ্ন দেখেছিল বলে তার আবির্ভাব ও বিকাশ ঘটেছিল দ্রুত। হজরত ইব্রাহিম সেই স্বপ্নের দ্রষ্টা। যে কারণে জেরুসালেমের দিক থেকে রুকু ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর স্মৃতি মক্কার দিকে ফিরেযায়- রুকু বদলের এই ইতিহাসের তাৎপর্য বুঝতে হবে। আখেরি নবী ভেবেছিলেন ইব্রাহিমের মধ্য দিয়ে তিনি সেই সময়ের সকল একত্ববাদী ধর্মকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। হজরত ইব্রাহিম সেই দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর সম্মানেই তাই কোরবানির ঈদপালন ওয়াজিব করা হয়েছে।
১১. কিছু কথা বলে রাখলাম আপাতত এটা বোঝাবার জন্য যে কোন বিষয়কে আংশিক বা একদেশদর্শী ভাবে বিচার করা মোটেও ঠিক নয়। অর্থাৎ কোরবানি দেবার দরকার কী? মনের পশুকে কোরবানি দিলেই তো হয়- যাঁরা এইসব পপুলিস্ট কথাবার্তা বলেনতাঁরা আসলে নীতিগত ও কৌশলগত উভয় দিক থেকেই মারাত্মক ভুল করেন। প্রথমত বোঝা যায় ধর্ম ও ধর্মতত্ত্বের ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের কোন ধারণাই নাই। দ্বিতীয়ত তাঁরা আসলে যে খ্রিষ্টীয় তত্ত্বই ধোপদুরস্ত ধর্মনিরপেক্ষতার ভান ধরে প্রচারকরছেন- তাঁরা নিজেরাই তা জানেন কি না সন্দেহ। যার অর্থ একালে দাঁড়ায় তাদের মনের পশুর তত্ত্ব না মানলে অন্যেরা ধর্মচর্চার দিক থেকে বর্বর ও অসভ্য। ইসলামের সমালোচনা বা পর্যালোচনা করুন, কিন্তু না বুঝে বা না জেনে নয়। প্রপাগান্ডার শিকার হবেন না।
স্যরি, মনের পশু তত্ত্ব মেনে নেবো না।
১২. তবে যাঁরা সত্যি সত্যিই যেভাবে এখন উৎসব করে কোরবানি দেওয়া হয় তার বিরোধিতা করেন, তাঁদের অনেক যুক্তি আছে। আমি তা সমর্থন করি। তাঁরা মনের পশুর ধারণার মধ্য দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলতে চান, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যায্য। কিন্তু বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা সম্পর্কে অসচেতন থেকে তুলবার ধরন এবং ধর্মের ইতিহাস ঘনিষ্ঠ ভাবে পাঠ না করায় এতে ভুল বোঝার সম্ভাবনাই বেশি। এটা তো সত্যি যে আমাদের কিছু বৃত্তি, চরিত্র ও আচরণ রয়েছে যা বিপজ্জনক। পশুর প্রতি নির্দয় হওয়া, অতিরিক্ত ধর্মোৎসাহ পশুহত্যা বাড়িয়েদেওয়া, ইত্যাদি। প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি দরদ ইসলামের নীতি, কিন্তু সেই দরদের অভাব আমাদের কাতর করছে না। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। এসব নিয়েসুযোগ পেলে অন্যত্র আলোচনা করব। তবে পশুকে জীব হিসাবে ইসলাম মানুষের চেয়ে হীন মনে করে না। মনের পশুকে হত্যা যদি সিদ্ধ বলে গণ্য হয় তাহলে বাস্তবে পশু কোরবানি দেওয়া অগ্রহণযোগ্য কেন তার কোন যুক্তি নাই। এই জন্যই ইসলাম কথাটাকে পশু প্রতীক দিয়ে বলতে নারাজ। এ ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ হচ্ছে নাফসানিয়াত- মানুষের নিজের নফস থেকে মুক্ত হতে না পারা। মুক্ত হবার পথ হচ্ছে জিহাদ। অর্থাৎ নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ। কিন্তু জিহাদ শুনলে অনেকের গা হাত পা কাঁপতে থাকে- সমস্যা এইখানে।
১৩. শুধু বলে রাখি, কোরবানির ঈদ মোটেও উৎসব নয়, এটা পরীক্ষার দিন। মানুষের রুহানিয়াত অর্জনের সম্ভাবনা স্বীকার করে নিজেকে আল্লাহর পথে যেকোন সময় কোরবানি দেবার শপথ নেবার দিন, মুমিন সেভাবেই এই দিনটি পালন করেন। সেইক্ষেত্রে তাঁদের অবশ্যই কিছু বিষয় পালন জরুরি বলে ছেলেবেলা থেকে আলেম ওলামা মুফতিদের কাছ থেকে জেনেছি। সেটা হোল- ১. কোরবানির গোশত একবেলার বেশি যেন ঘরে না আসে সেই দিকে খেয়াল রাখা; ২. বাকি গোশত গরিবদের মধ্যে অবশ্যই বিলিয়ে দিতে হবে। কোরবানির গোশতের তারাই হকদার। এই দিনে গরিবকে তার হক থেকে বঞ্চিত করার চেয়ে বড় কোন গুনাহ আর হতে পারে না। তিন ভাগ করে এক ভাগ আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার বিধান আছে। কোন ছহি হাদিসের ওপর ভিত্তি করে কোনপ্রামাণ্য নিয়ম হিসাবে না, ঐতিহ্য হিসাবে গড়ে উঠেছে। তাই গরিবের কথা বলার মধ্যে আত্মীয়স্বজনও অন্তর্ভুক্ত যারা গরিব।
১৪. কোরবানির গোশত জমিয়ে রেখে খাওয়ার মধ্যে যে ভোগবাদিতা ও ভোগী আচরণ গড়ে উঠেছে, কোন ভাবেই তা মেনে নেওয়া যায় না। দুঃখিত। যারা মাংস খেতে চান তো খান। তবে দয়া করে মিল্লাতে ইব্রাহিমের অপমান করে ঈদের দোহাই দিয়ে এই ভোগবাদিতার পক্ষে যুক্তি দেবেন না। ভোগবাদিতার সঙ্গে কোরবানির কোন সম্পর্ক নাই। এর সঙ্গে সম্পর্ক পুঁজিতান্ত্রিক সমাজ ও ব্যক্তিতন্ত্রের। ইসলামকে অবশ্যই এই পুঁজিতন্ত্র ও ভোগবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে দাঁড়াতে হবে। না দাঁড়ালে ভোগবাদীদের চরিত্রই ইসলামের চরিত্র বলে সবাই মারাত্মক ভুল করবে। আলেম ওলামা মওলানা মুফতিদের এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। এখন ঈদের যে রূপ তা ভোগবাদিতারই প্রতিযোগিতা। দয়া করে এর সঙ্গে কেউ ইসলামকে জড়াবেন না। সবার কাছে আবেদন, ভোগবাদিতার বিরোধিতা করুন। মাংস খাওয়া আর গরু জবাইয়ের উৎসবের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্ক আছে বলে অন্তত আমার সীমিত পড়াশুনায় মনে হয় নি।যারা জ্ঞানী, প্রাজ্ঞ ও মুফতি- মতামত দেবার অধিকারী- তাঁরাই ভালো জানবেন। -


Comments

  1. I liked the way you set up this post, Thanks for sharing your thoughts. Have a nice week ahead!!
    https://www.goassignmenthelp.com.au/accounting-assignment-help/

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

How to Type Bangla & Arabic Unicode Font in Adobe InDesign CC 2018

বাংলা ইউনিকোড ফন্ট তৈরির প্রক্রিয়া (পর্ব-২)

ইউনিকোডে বর্ণে র-য ফলা, মাত্রা, রেফ, এবং যাবতীয় সংযুক্ত বর্ণ টাইপ করলে মনিটরে সঠিক ভাবে দেখায় এই সব তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে ওপেন টাইপ ফিচার । ওপেনটাইপ প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা ক(্)ক=ক্ক, ল(্)ল=ল্ল, ম(্)ম=ম্ম, ক(্)ষ=ক্ষ, হ(্)ম=হ্ম ইত্যদি সংযুক্ত বর্ণ  টাইপ করলে দেখতে পাই। বাংলা ভাষায় যতগুলো যুক্তাক্ষর আছে তার সবগুলো ফন্টে যোগ করা যাবে। ওপেনটাইপ পদ্ধতি উদঘাটিত না হলে হয়তো বাংলা  ইউনিকোড ফন্টটে যুক্তাক্ষর জন্য হয়তো আজও আমার ইউনিকোড ফন্ট ব্যবহার করতে পারতাম না। ইউনিকোড ফন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে অতান্ত গুরুত্ব পুন্য অংশের একটি ওপের টাইপ ফিচার। ওপেনটাইপ ফন্ট কোনো পরিবর্তন ছাড়াই উইন্ডোজ, লিনাক্স  ও  ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে ওয়েব ব্রাউজার  যে কোন অবস্থায় লিখতে পারবেন।   অ্যাডোবি তাদের সর্বশেষ সংস্করণে Adobe Middle East & North Africa CS5 / CS 6 / CC বাংলা ইউনিকোড বাংলা  ফন্ট সমর্থন করে এবং আপনার যদি অ্যাডোবির অন্য সংস্করণ ব্যবহার করে থাকেন তাহলে CS4/CS5 এই ইউনিকোডে বাংলা লেখার জন্য এই লিঙ্ককে দেখতে পারেন।
ওপেনটাইপ ফিচার যোগ করার জন্য "Microsoft VOLT" অসাধারণ ওপেনটাইপ …

কুরআন প্রেমী মুসলিম ভাই ও বোনদের জন্য এন্ড্রোইড ফোনে মাত্র ৭০/৮০/৯০ এমবিতে সম্পূর্ণ কুরআন

কুরআন প্রেমী মুসলিম ভাই ও বোনদের জন্য এন্ড্রোইড ফোনে মাত্র ৭০/৮০/৯০ এমবিতে সম্পূর্ণ কুরআন

আপনার নিজের এন্ড্রোইড ফোনে মাত্র ৭০/৮০/৯০ এমবিতে সম্পূর্ণ কুরআন তেলাওয়াত ইনস্টল করে শুনতে থাকুন। পবিত্র কা'বা শরীফের ইমামসহ বিশ্ববিখ্যাত ক্বারীদের তেলাওয়াত পাবেন সাধারণত ৭০ এমবির মধ্যেই। আর সেটা আপনার এন্ড্রোইড ফোনের এপসের মাধ্যমেই। কষ্ট করে আর মোবাইলের মেমোরি কার্ডে কয়েকশত এমবি কুরআনের অডিও বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে না।






তাহলে আর দেরী কেন? এখনই এপসগুলো ইনস্টল করে নিন এবং অন্যদের মাঝে বেশি বেশি শেয়ারইটের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে সাদাকায়ে জারিয়াহর একটা রাস্তা উন্মুক্ত করে দিন। এগুলো আপনার জন্য সাদাকায়ে জারিয়াহ হিসেবে গণ্য হবে ইনশাআল্লাহ। আপনার পরিচিতদের মাঝে সবার কাছেই এভাবে পবিত্র কুরআনের এপস ছড়িয়ে দিন। আশা করি, এগুলো সবারই ভালো লাগবে এবং তারা সেগুলো শুনলে কিংবা তাদের মাধ্যমে অন্য কারো কাছে যাওয়ার পর তারাও যদি সেগুলো শুনে তাহলে সবার সাওয়াব বাই ডিফল্ট আপনার নিজের আমলনামায় copy হিসেবে (cut হিসেবে নয়) চলে আসবে ইনশাআল্লাহ।

কা'বা শরীফের ইমাম আব্দুর রহমান আস সুদাইসের সম্পূর্ণ কুরআনের এপস [৭৬ এমবি]


Downlo…

ইসলামী প্রয়োজনীয় ৫টি অ্যাপ

ইসলামী প্রয়োজনীয় ৫টি অ্যাপ 

১. অর্থপূর্ণ নামায (সালাত) শব্দসহ

:::::এতে আছে::::::

১। সলাতে(নামাযে) পঠিত সূরা, তাসবিহ, দোআর অর্থ

২। সূরা ফাতিহাহ এবং শেষ ১৩ সূরা

৩। শব্দে শব্দে অনুবাদ, গভীর শাব্দিক এনালাইসিস ও তাফসির আহসানুল বায়ান

৪। সলাতের ওয়াক্ত, ওয়াক্ত নোটিফিকেশান এবং কিবলা

৫। Pinch zoom করে মন মত ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করে নিন

৬। ছবি ও লেখা শেয়ার করার সুবিধা

৭। কোন অ্যাড নেই!

৮। নামাযের সময়সূচী দেখার জন্য উইজেট সুবিধা








Download Link








২. দোআ ও যিকির (হিসনুল মুসলিম)

এতে আছে :-
------------------

• ঘুমানোর, ঘুম থেকে ওঠার, পোশাক পরা ও খোলার, পায়খানার, ওযুর, নামাযের, মসজিদের, ইস্তিখারার দো'আ (দুয়া বা দুআ) ও সকাল ও বিকালের যিকর (বা জিকির)

• কুরআন ও হাদিসের ২৫০ ও বেশি দোআ ও যিকির

•  আপনার পছন্দের দোআ সেভ করে রাখুন

What are Thumbs.db Files and Can I Delete Them? (Windows)

Got thumbs.db in Windows Explorer? Here's what they are and what you can safely do with them.

I spend a good amount of time in Windows Explorer doing various tasks. Every now and then I run across a file I'm not familiar with and I'm not sure what to do with. Thumbs.db is a good example, it has an odd extension: .db.
You won't see any thumbs.db files unless you've checked "Show Hidden Files and Folders" in the Folder Options panel and are using the icon mode in Explorer, so if you haven't seen them that's probably why. :)
Thumbs.db is much like its name. It stores graphics, movie, and some document files then generates a preview of the folder contents using a thumbnail cache.
These folders are generated automatically by Windows so that folder content doesn't need to be recalculated every time the folder is viewed.



You can disable thumbs.db from being created, which can be useful if you are low on disk space. I've used both modes (enabled and di…

হজ্ব সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রশ্নোত্তর

হজ্ব মুসলিম উম্মাহর সর্বোত্তম ইবাদত। ইচ্ছা করলেই কেউ হজে যেতে পারে না। হজের জন্য সর্ব প্রথম শর্তই হলো আর্থিকভাবে সামর্থ থাকতে হবে। অতঃপর শারীরিক সক্ষমতা লাগবে। আর মানসিক প্রস্তুতিও হজের জন্য আবশ্যক বিষয়। হজ হলো আল্লাহ তাআলা কিছু অনন্য নিদর্শন স্বচক্ষে দেখার জন্য পবিত্র নগরী মক্কা মুকাররমার ওই সব স্থানে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং যথাযথ মন নিয়ে পালন করার নাম। ওই সব নিদর্শন তারই হুকুম পালনকারী প্রিয় বান্দা নবি-রাসুলদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি স্মারক বা ঘটনা। যে ঘটনাগুলো আল্লাহ তাআলার অনেক পছন্দ হয়ে যায়। আর তার পরিদর্শনকে আল্লাহ তাআলা ইসলামের রোকন হিসেবে সাব্যস্ত করেন। হজের নিদর্শন সম্পর্কিত কিছু তথ্য প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো- >> পবিত্র কাবা শরিফ কে তৈরি করেছেন?
উত্তর : হজরত ইবরাহিম আলাইহি সালাম পবিত্র কাবা শরিফ নির্মাণ করেন। কাবার স্মৃতি চিহ্ন মুছে যাওয়ার পর আল্লাহর নির্দেশে তিনি হজরত ইসমাইলকে সঙ্গে নিয়ে কাবার জন্য নির্ধারিত স্থানেই কাবা নির্মাণ করেন।

>> পবিত্র কাবা শরিফের চারদিকে তাওয়াফ করতে কোন দিককে নির্দেশ করা হয়েছে?
উত্তর : কাবা শরিফকে বাম দিকে তাওয়াফ করতে হবে। সহজে…

How to Create Easily Bangla Unicode Font? (1)

বাংলা ইউনিকোড ফন্ট তৈরির প্রক্রিয়া (পর্ব-১)

টাইপোগ্রাফী কাজটা বড় কঠিন কাজ বিশেষ করে বাংলা ফন্টর তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রায় বাংলা ৫০০-৬০০ অক্ষর এবং যুক্তাক্ষর এর একটা বিরাট অংশ নিয়ে কাজ করতে হয়। নতুন ফন্ট মানে নতুন ডিজাইনের নতুন ফন্ট তৈরি করা এই কাজটি আর্টিষ্টিরা অতি সহজেই করতে পারবেন। প্রথমেই সব ধরণের অক্ষরের একটা তালিকা তৈরী করে নিন।
তালিকায় যেসব অক্ষর থাকবে তা হলোঃ- ১. সবগুলো মৌলিক অক্ষর (সংখ্যা আকার ও কার সহ) ২. হসন্তযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ। ৩. ব্যঞ্জনবর্ণের অর্ধরূপ।(যদি কতেচান করতে পারেন দেখতে সুন্দর দেখার যাবে) ৪. সকল যুক্তাক্ষর গোছানো ভাবে ৫. ইংরেজি অক্ষর (যদি রাখতে চান)
ভেক্টর আঁকার জন্য সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয়:- Adobe IllustratorCorelDRAWInkscapeফন্ট তৈরীর জন্য:- FontLabHigh-Logic FontCreatorFontForge আমি ব্যবহার করি Adobe Illustrator, Font Lab নিচের ছবিতে দেখুন গ্লিফ ইনডেক্সঃ- বাংলা অক্ষর, যুক্তাক্ষর ইত্যাদি গ্রাফ পেপার অঁকন করতে হবে। স্ক্রীনিং করে ভেক্টর আঁকার জন্য ইলেস্ট্রার এর Pen Tool দিয়ে অঁকন করতে হয়। এই কাজ করার জন্য ইলেস্ট্রার এর উপর অভিগতার দরকা। গ্লিফ অঁকন করার এবং সাইজ এর জন্য এই লিংক ডাউনলোডকরুন ইলেস্ট্রার ফাইল নিচ…

Divi Elegant Themes 100 - The countdown to Divi 3.0